নির্যাতনের পর ছবি ছাপা—তসলিমার চোখে ‘ধর্মনিরপেক্ষ প্রতারণা’

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর একদিকে চলছে নির্যাতন, অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে মন্দিরের ছবি ছাপানো হচ্ছে নতুন মুদ্রায়—হিন্দু নির্যাতন ও মন্দিরের ছবি সম্বলিত টাকার নোট দেখতে পেয়ে অনেকে রিতীমতো থমকে গেছেন! এই দ্বিচারিতাকে “প্রতারণা ও প্রচারণার ফাঁদ” বলে অভিহিত করেছেন প্রবাসে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত নতুন নোটে একটি হিন্দু মন্দিরের ছবি ছাপানো হয়েছে। এতে একদিকে সরকার ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মুখোশে বিশ্ব সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশের মাটিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে।
❝তসলিমার প্রতিবাদ❞
তসলিমা নাসরিন তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন:
“সরকার হিন্দুদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। একদিকে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, অন্যদিকে মন্দিরের ছবি ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনুস সরকারের আমলে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের প্রতীকে পরিণত করে রাজনীতি করা হচ্ছে।”
🔥 “জিহাদিরা নাকি জ্বালিয়ে দেবে এই নোট”
তসলিমার মতে, কিছু উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী ইতোমধ্যে নতুন টাকায় মন্দিরের ছবি দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্ট্যাটাসে দেখা গেছে, কেউ কেউ নোট জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। হিন্দু নির্যাতন ও মন্দিরের ছবি দিয়ে রীতিমতো হিন্দুদের বোকা বানানো হয়েছে বলে অনেকে সমালোচনা করেন।
🧕 তসলিমার নির্বাসনের ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিকতা
১৯৯৪ সালের আগস্টে খালেদা জিয়ার আমলে দেশত্যাগে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। মায়ের কান্না, ভাইবোনের আহাজারি পেছনে ফেলে দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশই আমার দেশ, কলকাতা বা ইউরোপ নয়। আমি বাংলার মাটি, বাতাস, ভাষার টানেই বেঁচে থাকতে চাই।”
তসলিমা দীর্ঘদিন ধরে ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। নারীবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে লেখালেখির কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও নিজ দেশে এখনও নিষিদ্ধ, অবাঞ্ছিত ও বিতর্কিত।
হিন্দু নির্যাতন ও মন্দিরের ছবি এ নিয়ে বরাবরই সাহসি প্রতিবাদ করে আসছেন বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার বিষয়ে সামান্য ধারনা পেতে পড়তে পারেন নিচের তসলিমা নাসরিন দেশে ফেরার বাধা কোথায় এ প্রতিবেদনটি পড়ুন —
তসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরার বাধা কোথায়?
🔎 প্রতারণা না প্রচারণা?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার নতুন টাকায় মন্দিরের ছবি ছাপিয়ে সংখ্যালঘুদের প্রতি সহানুভূতির বার্তা দিতে চাচ্ছে। তবে এটি মূলত বিশ্বমঞ্চে ‘সেক্যুলার ইমেজ’ প্রদর্শনের কৌশল, বাস্তবতা ভিন্ন।
অনেকের মতে, এধরনের প্রচার যদি সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দেওয়া হতো, হামলার বিচার হতো, মন্দির-দখল রোধ করা হতো।
📢 ফেরার দাবিতে প্রশ্ন: তসলিমার দেশে ফিরতে বাধা কোথায়?
বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কেন তসলিমা দেশে ফিরতে পারেন না? এই প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লেখিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী নন, শুধুমাত্র লেখার মাধ্যমে মত প্রকাশের জন্য তাঁকে দেশছাড়া হতে হয়েছে।
📌 শেষ কথা
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ও রাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে তসলিমা নাসরিনের মতো কণ্ঠগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে—আসলেই কি আমরা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বাস করছি? নাকি এটি এক রাজনৈতিক মুখোশমাত্র?
✅ বর্তমান সরকার মত প্রকাশে চরম বাধা দিচ্ছেন- তা পড়তে ক্লিক করুন
বঙ্গবন্ধুকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নতুন সংজ্ঞা: প্রশ্নের মুখে দখলদার ইউনূস বাহিনী
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।
পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।
কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























