২৬ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে, সরকার নীরব কেন?

Oplus_16777216
ভারত প্রতিদিন বাংলাদেশি পুশব্যাক করলেও, কথিত ২৬ লাখ ভারতীয়কে বাংলাদেশ এখনো কেন পুশব্যাক করছে না?
ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ দীর্ঘদিনের। সীমান্তে গুলি করে হত্যা, নির্যাতন এবং পুশব্যাক — এসব এখন যেন নিয়মিত খবর। অথচ, বাংলাদেশে কথিত ২৬ লাখ অবৈধ ভারতীয় নাগরিকের বসবাসের অভিযোগ ওঠার পরেও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও প্রশ্ন।
ভারতীয়দের পুশব্যাক নয়, বরং প্রশ্রয়?
সম্প্রতি আইনজীবী ও আলোচিত সরকারি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, “বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছে, যাদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের ব্যবসা ও চাকরির সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরও বলেন, “তারা অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে।”
তবে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিশ্লেষক। কেউ কেউ একে ‘ষড়যন্ত্রমূলক গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মাহবুবা রওশন বলেন, “এমন একটি বড় তথ্য যদি সত্য হতো, তাহলে জাতিসংঘ, আইওএম বা বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো না কোনো পর্যায়ে এটা উল্লেখ করতো। আসলে এটি রাজনৈতিক চাতুরীর অংশ।”
সীমান্তে বাংলাদেশিদের উপর বর্বরতা, কিন্তু ভারতীয়দের জন্য সুরক্ষা?
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে বিএসএফ-এর সহিংস আচরণ নতুন নয়। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই অন্তত ৪৫ জন বাংলাদেশি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন সীমান্তবর্তী জেলা যেমন কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর ও মেহেরপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশিদের আটক করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা পুশব্যাক করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, “গত সপ্তাহেই পাঁচজন বাংলাদেশিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে পুশব্যাক করা হয়েছে। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক বা ফেরত পাঠানোর নজির নেই।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য?
এই তথাকথিত ‘২৬ লাখ ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। আওয়ামী লীগ নেতারা একে ‘গুজব’ আখ্যা দিলেও বিএনপি ও সরকারবিরোধী মহল এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোহেল রানা বলেন, “মূলত এই ধরনের তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি জনমনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধেই এটি একটি কৌশলী প্রচারণা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রেখে তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে এই ধরনের গুজব দেশবিরোধী শক্তির হাত শক্তিশালী করতে পারে।”
তাহলে কী করণীয়?
- সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দাবি করা ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
- সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের বিরুদ্ধে জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে হবে।
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের তালিকা, ভিসা স্ট্যাটাস ও বৈধতার বিষয়েও গণমাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
- দেশবাসীর মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে জন্য সরকারি পর্যায়ে সচেতনতা প্রচার ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
উপসংহার
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাক ও হত্যার ঘটনায় যখন ভারতকে জবাবদিহির মুখে ফেলা উচিত, তখন উল্টো ‘২৬ লাখ ভারতীয়’ ইস্যুতে সরকারের নীরবতা বা গড়িমসি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এটি কি সত্যিই কোনো জাতীয় সংকট, না কি রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ — সে প্রশ্নের জবাব এখন রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
আওয়ামীলীগের ভয়ে নিরাপত্তা জোরদার
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রুখতে, ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন এর মতো গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল বা সমাবেশের আড়ালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।
তিনি বলেন, সোমবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হতে পারে। আদেশ জারির পরপরই নির্ধারিত জেলাগুলোতে সেনা মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
জেলহাজতে প্রেরণ
হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে দেবীদ্বারের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন সরকার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জসীম উদ্দিন সরকার নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। তাকে আরো পৃথক দুটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল। তারপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি দেবীদ্বারের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে হাজির হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলার ১০ নম্বর এজাহারনামীয় এবং আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার ৭২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার আসামি মো. জসীম উদ্দিন সরকার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের রাজামেহার গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী সরকারের ছেলে।
তিনি রাজামেহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
সোমবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি ওই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের আবেদন করে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যা মামলার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি আদালতে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।
দুই দেখায় ৮ গোল, জয় নেই অস্ট্রিয়ার
৬ গোল, এক হ্যাটট্রিক, হার নেই; ৩৬ বছর পর আজ আবার আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া

ম্যারাডোনার হ্যাটট্রিকের সেই প্রতিপক্ষ আজ আবার সামনে, ইতিহাস কি বলছে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে?
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবারও অপেক্ষা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া দ্বৈরথের। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে খুব বেশি দেখা না হলেও দুই দলের পূর্ববর্তী লড়াইগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায়। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক আজও ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
🔹 ৩৬ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া।
🔹 দুই দলের আনুষ্ঠানিক দেখার সংখ্যা মাত্র ২টি।
🔹 আর্জেন্টিনা জিতেছে ১ ম্যাচ, অন্যটি হয়েছে ড্র।
🔹 দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ৬, অস্ট্রিয়ার ২।
🔹 ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক এসেছিল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেই।
🔹 ইতিহাস বলছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই দুই ম্যাচে মোট ৮টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ৬ গোল, আর অস্ট্রিয়া করেছে ২ গোল। জয়ের পাল্লাও স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার দিকেই ঝুঁকে আছে।
দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। সে সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে ৫-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয়। ম্যাচটি ইতিহাসে স্থান করে নেয় মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার কারণে।
ভিয়েনার সেই ম্যাচে ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩ মিনিটে সান্তিয়াগো সান্তামারিয়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিওপোলদো লুকুয়ে।
এরপর ১৫ মিনিটে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পঞ্চম গোল করেন তরুণ ম্যারাডোনা। যদিও ২০ মিনিটে কুর্ট জারা একটি গোল শোধ করে অস্ট্রিয়াকে কিছুটা আশা দেখান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারও জ্বলে ওঠেন ম্যারাডোনা। আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সেটিই ছিল ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম এবং শেষ হ্যাটট্রিক। পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে একাধিকবার জোড়া গোল করলেও আর কখনো তিন গোল করতে পারেননি ফুটবলের এই কিংবদন্তি। ফলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা সেই হ্যাটট্রিকই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
দুই দলের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক লড়াই অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৩ মে। ভিয়েনাতেই অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শুরুতেই ধাক্কা খায়। ম্যাচের ৩ মিনিটে মানফ্রেড জাকের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক অস্ট্রিয়া।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হোর্হে বুরুচাগার গোলে সমতা ফেরায় আলবিসেলেস্তেরা। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি রেকর্ডে এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই অস্ট্রিয়ার। দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, অন্যটি ড্র হয়েছে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
- মোট ম্যাচ: ২
- আর্জেন্টিনার জয়: ১
- অস্ট্রিয়ার জয়: ০
- ড্র: ১
- আর্জেন্টিনার গোল: ৬
- অস্ট্রিয়ার গোল: ২
তবে ইতিহাসে দুই দলের একটি অনানুষ্ঠানিক ম্যাচের তথ্যও পাওয়া যায়। ১৯৬৬ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে ম্যাচটি ফিফার স্বীকৃত পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে গণ্য নয়।
সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আর্জেন্টিনা। দুই দলের সর্বশেষ দেখার পর কেটে গেছে ৩৬ বছরেরও বেশি সময়। তাই আজকের লড়াই শুধু নতুন একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের পুরোনো হিসাব-নিকাশেরও নতুন অধ্যায়। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মাঠে—অস্ট্রিয়া কি প্রথম জয় পাবে, নাকি আর্জেন্টিনা ধরে রাখবে নিজেদের অপরাজিত আধিপত্য?























