বৈঠক বাতিল, ব্রিটেন বুঝিয়ে দিল অনির্বাচিত ইউনূসকে আর মানে না
বৈঠক বাতিল হওয়ায় মুহাম্মদ ইউনূসের বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আর হচ্ছে না। লন্ডনে সফররত ইউনূসের সঙ্গে আলোচিত এ সাক্ষাৎ বাতিলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে—ব্রিটেন বিতর্কিত ও অনির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত ইউনূসকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিতে নারাজ। বাংলাদেশ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় গঠিত ইউনূসের অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা এই বাতিল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বড় ধাক্কা খেল।
সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্র বলছে, লন্ডনে ইউনূসের সফরের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায়। সম্ভাব্য সময় হিসেবেও আজ বৃহস্পতিবার কিংবা আগামীকাল শুক্রবারের কথা বলা হয়েছিল। তবে শেষমেশ বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় পরিষ্কার হলো—ব্রিটেনের নতুন সরকার ইউনূসকে স্বীকার করতে চায় না।
ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক Financial Times এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে—‘Starmer declines to meet Bangladesh leader tracking down missing billions’। এতে বলা হয়, নির্বাচন ছাড়াই সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতা দখল করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারকারী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে রাজি হননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের এক কূটনীতিক বলেন, “এই বৈঠকটি চূড়ান্ত ছিল না, বরং কূটনৈতিক পর্যায়ে একটি প্রচেষ্টা চলছিল।” অন্য এক কর্মকর্তার মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার রাজনৈতিকভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ইউনূস কিংবা তাঁর তথাকথিত সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না।

ইতিমধ্যেই ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, এবং বিদেশি লবির সহায়তায় সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এসব ইস্যু নিয়ে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী ইউনূসের মুখোমুখি হতে চাইলেও, ইউনূস তাঁর প্রস্তাবিত বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, টিউলিপ হলেন বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। তিনি স্পষ্টভাবে ইউনূসকে ‘কাল্পনিক দুর্নীতির গল্প বানিয়ে’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানোর জন্য দায়ী করেছেন।
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ গ্রহণের জন্য ইউনূসের লন্ডন সফরের কথা বলা হলেও, নাম নেই তাঁর মনোনয়ন তালিকায়। এ নিয়েও সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইউনূসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক, যা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি তাঁকে স্বীকৃতি দেয় না, সেখানে তিনি কোন ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন?
বৈঠক বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বার্তা একদম স্পষ্ট—অনির্বাচিত, বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ইউনূসকে তারা কোনোভাবেই রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দিতে প্রস্তুত নয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও গ্রহণযোগ্যতার ময়দানে ইউনূসের প্রচেষ্টা যে এবারও ব্যর্থ হলো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





















