বিচার না রাজনীতি: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের আপিল বিতর্ক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আপিল ঘিরে নতুন বিতর্ক
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আপিল এখন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের খালাসের বিরুদ্ধে অসম্মতি দেয়ার অনুমতি পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি প্রকৃত ন্যায়বিচারের অংশ, না কি একটি রাজনৈতিক কৌশল?
বিচারিক প্রক্রিয়া নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ২৪ জন নিহত হন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনেকের বিরুদ্ধে সাজা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিকে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।
এই খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অসম্মতা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অসম্মতি বা না রাজি দেয়ার প্রক্রিয়াটি কি ন্যায়বিচারের প্রয়াস, না কি তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা?
রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কৌশল?
বিএনপি দাবি করছে, এই আপিল সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের ভাষ্য, সরকার বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।
অন্যদিকে, সরকারপন্থীরা মনে করেন, এমন না রাজ দেয়া একটি ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ, কারণ এমন অপরাধের বিচার কোনোভাবেই আপোষযোগ্য নয়।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও জনমত
বিএনপির নেতারা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আপিল বিষয়টি প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির অংশ। তারা মনে করেন, এটি জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এটিকে বিচারের ধারাবাহিকতা বলে দাবি করছে।
জনমতেও বিভাজন স্পষ্ট। কেউ মনে করেন, এই আপিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয়; অন্যরা মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
আন্তর্জাতিক নজরদারি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এ মামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তা সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার চূড়ান্ত রায় শুধু তারেক রহমানের ভবিষ্যতই নয়, বরং দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথও নির্ধারণ করতে পারে।
ভয়াবহ ওই হামলার বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে সেই বিচার প্রক্রিয়াটি হতে হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আপিল যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কৌশল হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ
কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষককে পিটিয়ে ও বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দেবাড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে একই পক্ষ শফিকুল ইসলামের প্রায় আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকেই তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিন আগে এক দফা মারধরের পর শনিবার আবারও হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
শফিকুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় শফিকুলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফাতেমা বেগম এবং চাচা মজিদকেও মারধর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তদের একজন মাহাবুব মারধরের ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটু হাতাহাতি হয়েছে।”
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সচিবের পরিদর্শন
সেতু সচিবের পরিদর্শন ঘিরে আশার আলো দেখছে ঝালকাঠিবাসী। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে পরিদর্শনে বের হন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া, সুতালড়ী এবং ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেতুর অবস্থান, নদীর প্রবাহ, সংযোগ সড়ক, ভূমি পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সচিবকে অবহিত করেন। সচিবও বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, নলছিটিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীর দুই তীরের জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধা সেতু বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণরক্ষা
ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের বাসিন্দা আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি আক্তার তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হঠাৎ সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
লাকি আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পদক্ষেপ নেন বলে জানান।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

























