বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন ঝামেলায় ড. ইউনুস: টিউলিপ সিদ্দিকের মুখোমুখি হওয়ার চাপ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ৬:২১ পিএম
নতুন ঝামেলায় ড. ইউনুস: টিউলিপ সিদ্দিকের মুখোমুখি হওয়ার চাপ

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ড. ইউনুস লন্ডন সফর নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
  • দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়ে তার সাথে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।
  • এই সফরকে ঘিরে এখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে, যা ইউনুসকে এক প্রকার ‘উভয় সংকট’-এর মধ্যে ফেলেছে।

ড. ইউনুস লন্ডন সফর নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়ে তার সাথে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এই সফরকে ঘিরে এখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে, যা ইউনুসকে এক প্রকার ‘উভয় সংকট’-এর মধ্যে ফেলেছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের খোলা চিঠি

চারবার নির্বাচিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য এবং স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরও জনপ্রিয় টিউলিপ সিদ্দিক ড. ইউনুসকে একটি উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছেন, লন্ডন সফরের সময় ড. ইউনুস যেন তার সাথে দেখা করেন এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে যে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখোমুখি আলোচনা করেন।

লন্ডনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি

জানা গেছে, ড. ইউনুসের এই সফরে তার সাথে থাকবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও। এতে ইঙ্গিত মিলেছে, এই সফর নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাখ্যার একটি চেষ্টাও থাকতে পারে।

সাক্ষাৎ না দিলে বিপদ, সাক্ষাৎ দিলেও বিব্রতকর প্রশ্ন

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ড. ইউনুস টিউলিপ সিদ্দিকের আহ্বানে সাড়া না দেন, তবে ব্রিটিশ সরকার ও জনগণের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আরও বিতর্কিত হয়ে উঠবে। আর যদি সাক্ষাৎ করেন, তাহলে তাকে যে কঠিন ও বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, তার প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। কারণ, ইউনুসপন্থীরা দাবি করছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

ড. ইউনুস লন্ডন সফর
ড. ইউনুস লন্ডন সফর

ইউনুসের জন্য লন্ডন সফর এখন চরম দ্বিধার

এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনুসের লন্ডন সফর পরিণত হয়েছে এক রকমের ‘উভয় সংকট’ বা Dilemma-তে। তিনি যেটিই করুন না কেন, বিতর্ক তার পিছু ছাড়বে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

🌐 পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। তাকে লক্ষ্য করে দুদকের পদক্ষেপের সময়, প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। একদিকে ইউনুস একজন নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে তিনি সরকারের বিরোধী ভাবমূর্তির এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

টিউলিপ সিদ্দিকের মতো একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ এমপির সরাসরি এই ইস্যুতে যুক্ত হওয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্বেগ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে। টিউলিপের পরিবারিক শিকড় বাংলাদেশে হলেও, তার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশ সংসদের একটি অংশের প্রতিফলন।

যদি ড. ইউনুস এই আলোচনায় অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে এটি দুর্নীতির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া বলেই প্রতিপন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, তিনি যদি মুখোমুখি হন, তবে সরকারপন্থী মহলে সেই বক্তব্যকে আবার ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এ থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভাবমূর্তির সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বার্তা:

ড. ইউনুস লন্ডন সফর এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, দেশের ভেতরের যে রাজনীতিক সংঘাত, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারের প্রতিপক্ষ, বিদেশি মিডিয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকাও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইউনুসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিতর্ক ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

চান্দিনার রেজাউল নিজেকে সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে চাইলেন লাখ টাকা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
চান্দিনার রেজাউল নিজেকে সচিবের ভাই পরিচয়ে ইউএনওর কাছে চাইলেন লাখ টাকা

ইউএনওর সন্দেহে বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই পরিচয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীমের কাছে এক লাখ টাকা ধার চাওয়ার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক রেজাউল করিমের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এম এ খালেকের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন।

রামগড়ের ইউএনও কাজী শামীম জানান, ঘটনার দুই দিন আগে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তি ফোনে জানান, তিনি রামগড়ে অবস্থান করছেন। পরে তাকে ইউএনও কার্যালয়ে আসতে বলা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে জানতে পারি, তার দেওয়া পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
— কাজী শামীম
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রামগড়, খাগড়াছড়ি

কার্যালয়ে আসার পর ওই ব্যক্তিকে নাশতা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওর বদলির প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিজের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে ইউএনওর কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। ঢাকায় ফিরে সেই টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সন্দেহ হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তবে ওই ব্যক্তি সচিবের বড় ভাই কি না, সে বিষয়ে সচিব স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এরপর রেজাউল করিমের পরিচয় ও রামগড়ে তার অবস্থানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। ইউএনও জানান, রামগড়ে অবস্থানের সময় রেজাউল করিম থানার ওসির পরিচয় ব্যবহার করে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন বলে জানা যায়। তবে রামগড় থানার ওসি তাকে চেনেন না বলে নিশ্চিত করেন।

পরে প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিমকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, “প্রতারণার অভিযোগে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’

ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা

সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?

জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।

জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
— রাশেদ আহমেদ
প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল দৈনিক সংবাদ

কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।

রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।

যে স্বপ্ন এখনো অধরা

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।

সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।

কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।

তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?

উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।

সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।

জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি

জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।

টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।

তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।

৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।

একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।

রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—

কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
— অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ
চেয়ারম্যান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

×
ENG