বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বগুড়ায় চামড়ার বাজারে ধস: অসংখ্য চামড়া অবিক্রীত, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিতে

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ১২:১৯ এএম
বগুড়ায় চামড়ার বাজারে ধস: অসংখ্য চামড়া অবিক্রীত, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিতে
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় এবারও চরম সংকটে পড়েছে। কোরবানির পর শহরে কিছু চামড়া বিক্রি হলেও গ্রামে ক্রেতার অভাবে অসংখ্য গরু, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া অবিক্রীত পড়ে আছে। গরুর চামড়া সামান্য মূল্যে বিক্রি হলেও ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কেউ নিচ্ছেন না।

শনিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শহরের ইয়াকুবিয়া মোড়ে চামড়া ক্রেতা রনি ও আরও কয়েকজন জানান, তাঁরা গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে কিনছেন। তবে ছাগলের চামড়ার প্রতি একেবারেই আগ্রহ নেই কারও।

রনি বলেন, ‘চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও কেনাবেচা কম। এবার পশু কোরবানিও কম হয়েছে। তবে গ্রামে গিয়ে চামড়া তোলার মতো পরিবহন ও সংরক্ষণের খরচ তুলতে পারছি না।’

চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় এবারও চরম সংকটে পড়েছে।
চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় এবারও চরম সংকটে পড়েছে।

গাবতলী উপজেলার লাঠিগঞ্জ গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সায়েদ আলী সকালে কয়েকটি গরু ও ছাগলের চামড়া কিনে ভ্যানে করে শহরে নিয়ে আসেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তাঁর কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘যেখানে যাচ্ছি, কেউ দামই বলছে না। শহরের বাজারেও ধস নেমেছে। অনেকেই বলছেন, চামড়া বিক্রি করে মূলধন তোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। লাভ তো দূরের কথা।’

বিকেল পর্যন্ত শহরের চকসুত্রাপুর, নবাববাড়ি রোড, জিলা স্কুল মোড়, নাটাইপাড়া ও খান্দার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছেন। অনেকেই চামড়ার গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বস্তা ও পলিথিনে মুড়িয়ে রেখেছেন। তবে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না।

বগুড়া সদরের ঘোলাগাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমার ৯৬ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করতে পারিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ আসেওনি। শুধু আমাদের না, পুরো গ্রামেই চামড়া পড়ে আছে।’

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ব্যয়, লবণ সংকট, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে চামড়ার বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকার যদি যথাযথ মনিটরিং ও সহযোগিতা না করে, তাহলে প্রতিবছরই কোরবানির মৌসুমে চামড়া নিয়ে এমন হতাশা তৈরি হবে।

শহরের পুরাতন চামড়া বাজারের ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, ‘এই এক মৌসুমেই আমাদের ব্যবসা হয়। কিন্তু এবার খরচই তুলতে পারিনি। লবণ, শ্রমিক, গুদামভাড়া সব মিলিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে।’

চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় যদি সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে এমন সংকট ও লোকসান অব্যাহত থাকবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ফসল ও পরিবেশ হুমকিতে

দেবীদ্বারে খালের ওপর মক্তব-টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২:২৭ পিএম
দেবীদ্বারে খালের ওপর মক্তব-টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের নারায়নপুর খালের ওপর মক্তব, টয়লেট, সেফটি ট্যাংকি ও বর্জ্যের ভাগাড় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালটির নাব্যতা নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি শত শত একর কৃষিজমির ফসল ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ি জামে মসজিদের পাশের গুরুত্বপূর্ণ নারায়নপুর খালের ওপর ফাউন্ডেশন দিয়ে মক্তব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ ও আশপাশের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি এবং বর্জ্য ফেলার স্থান গড়ে তোলায় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এ ঘটনায় খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়নপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকার গোমতী নদীর স্লুইসগেট সংলগ্ন মরা নদীর অংশ থেকে উৎপত্তি হওয়া এ খালটি বুড়ি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট প্রশস্ত এ খাল নারায়নপুর, আব্দুল্লাহপুর, ওয়াহেদপুর, জীবনপুর, কাবিলপুর, রামনগর, শিবনগর ও গুঞ্জর গ্রামের কয়েকশ একর কৃষিজমি ও মাছ আহরণের অন্যতম প্রধান সংযোগপথ।

নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আয়ুব সরকার বলেন, “খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

আরেক কৃষক শাহজাহান সরকার বলেন, “সরকার যখন খাল রক্ষা ও খননের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন একটি মহল খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ করছে। টয়লেটের বর্জ্যে খালের পানি দূষিত হচ্ছে। দ্রুত এসব অপসারণ করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী সাহেব আলী বলেন, “মসজিদ ও মক্তবের উন্নয়নের জন্য প্রবাসীরা অর্থ পাঠান। আমি সবার সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালন করছি। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন জটিলতা তৈরি হয়েছে।”

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. হাবিব উল্লাহ দাবি করেন, মক্তব ভবনের নিচে পিলার দিয়ে পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেও অভিযোগ উঠতে পারে।”

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, “সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। খালের ওপর মক্তব নির্মাণের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

নওগাঁর পোরশায় সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নাজমুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৩ এএম
নওগাঁর পোরশায় সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের খাতিরপুর মোড় থেকে ছাওড় গ্রামে প্রবেশমুখ পর্যন্ত ৬৩০ মিটার সড়ক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

এ সময় পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত

মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৪:১৭ এএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৪-২০২৫, ২০২৩-২০২৪, ২০২২-২০২৩ ও ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন এবং এল এল এম ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো কনফারেন্স কক্ষে ৬ মে ২০২৬ তারিখ বুধবার সকালে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা সাধারণ জনগণের থেকে অনেক বেশি মেধাবী ও জ্ঞানী। তাই তোমাদের দায়িত্বও সাধারণ জনগণের থেকে অনেক বেশি। আমি শুনেছি তোমাদের বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তোমরাও ভবিষ্যতে দক্ষতার প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনেক ভালো জায়গায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। তবে আমি আশা করি তোমরা তোমাদের পেশায় অনেক মানবিক হবে। শুধু পারিশ্রমিকের দিকে না তাকিয়ে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। আমাদের দেশের অনেক দরিদ্র জনগণ রয়েছে, তাদের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব তোমাদের। সেইসকল দরিদ্র জনগণকে সচেতন করা এবং আইনি সহায়তা যত সহজে দেওয়া যায়, তা দেওয়ার মতো মানবিক মূল্যবোধ তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে।’

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, জ্ঞানার্জনের কোন বিকল্প নেই। তোমাদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে, তবেই তোমরা ভালো আইনজ্ঞ হতে পারবে। সবশেষে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আসাদুজ্জামান (নিউটন) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মো. আহসান কবীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনির আলম এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরিন্দম বিশ্বাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×